প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ১১:০০ এএম
কোনো পণ্য কেনার জন্য অর্ডার না করেও একের পর এক পার্সেল পৌঁছে যাচ্ছে অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়ের বাসায়। শুধু পার্সেল পাঠানোই নয়, বিভিন্ন অনলাইনভিত্তিক বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তার মুঠোফোনে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এমন অস্বাভাবিক ঘটনায় বিব্রত হওয়ার পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই অভিনেতা।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় নিজের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন জয়। তার দাবি, কোনো ব্যক্তি তার মুঠোফোন নম্বর ও বাসার ঠিকানা অনলাইনভিত্তিক পণ্য সরবরাহের একটি গোষ্ঠীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এরপর থেকেই তার কাছে বিভিন্ন পণ্য পাঠানোর ঘটনা শুরু হয়েছে।
জয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম দিকে বিষয়টি মুঠোফোনে আসা একের পর এক ফোনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বিভিন্ন পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বা পেজ থেকে তাকে ফোন করে জানানো হচ্ছিল, তার নামে পণ্য পাঠানো হয়েছে। তিনি এসব পণ্য অর্ডার করেননি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট নম্বরগুলো বন্ধ করে দেন।
কিন্তু মুঠোফোন নম্বর বন্ধ করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি তিনি। এরপর সরাসরি তার বাসার ঠিকানায় বিভিন্ন পণ্য নিয়ে সরবরাহকর্মীরা হাজির হতে শুরু করেন। একের পর এক এ ধরনের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই বিড়ম্বনায় পড়েন তিনি।
জয় মনে করছেন, ঘটনাটি নিছক হয়রানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার ব্যক্তিগত তথ্য অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করে অন্যের নামে পণ্য পাঠানোর বিষয়টিকে তিনি অনলাইনভিত্তিক অপরাধ হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে তার আশঙ্কা, ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বর ও বাসার ঠিকানা এভাবে প্রকাশ্যে ছড়িয়ে পড়লে ভবিষ্যতে আরও গুরুতর কোনো সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষ করে অপরিচিত কোনো ব্যক্তি পণ্য সরবরাহের কথা বলে তার বাসায় প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন জয়। এ কারণে বিষয়টি কীভাবে আইনগতভাবে মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর তার অনুসারীদের অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ তাকে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি অর্ডার করা হয়নি—এমন কোনো পণ্য গ্রহণ না করা এবং সরবরাহের নামে বাসায় আসা অপরিচিত ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়েছেন অনেকে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জয়ের ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে কিছু মানুষ বিষয়টি নিয়ে রসিকতাও করেছেন। কয়েকজন ঘটনার পেছনে পরিচিত ব্যক্তিদের জড়িত থাকার ইঙ্গিত দিয়ে নানা মন্তব্য করেন। যদিও এসব মন্তব্যের বিষয়ে জয় কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
ঘটনাটি কীভাবে শুরু হয়েছে এবং কে বা কারা তার ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে দিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার প্রমাণও প্রকাশ্যে আসেনি।
ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার ঠেকাতে দ্রুত বিষয়টির উৎস খুঁজে বের করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মুঠোফোন নম্বর ও বাসার ঠিকানার মতো ব্যক্তিগত তথ্য অনুমতি ছাড়া ছড়িয়ে পড়লে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই জয়ের ক্ষেত্রে এই অস্বাভাবিক পার্সেল পাঠানোর ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং দায়ীদের শনাক্ত করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অভিনেতা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত শাহরিয়ার নাজিম জয় উপস্থাপনার সঙ্গেও যুক্ত। বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের কাজ ও ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে তিনি অনুসারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তবে এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দেওয়া বার্তার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন—নিজের ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পার্সেল পাঠানোর অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।



