প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
অভিনয়জগতে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একের পর এক সফল সিনেমা উপহার দিয়ে দর্শকের কাছে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন কারিনা কাপুর খান। দুই দশকের বেশি সময় ধরে হিন্দি চলচ্চিত্রে কাজ করে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা এই অভিনেত্রী এবার নিজের জীবনের এমন একটি সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন, যা নিয়ে এখনও তাঁর মনে আক্ষেপ রয়ে গেছে। একাদশ শ্রেণির পর পড়াশোনা ছেড়ে অভিনয়ে পা রাখার সিদ্ধান্তই এখন তাঁর কাছে জীবনের অন্যতম অপূর্ণতা।
সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় নিজের ব্যক্তিজীবন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং ক্যারিয়ার নিয়ে নানা কথা বলেন কারিনা। সেখানেই উঠে আসে তাঁর শিক্ষাজীবনের প্রসঙ্গ। অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা তাঁর কখনোই ছিল না। বরং শিক্ষাজীবন শেষ করার আগ্রহ ছিল প্রবল। কিন্তু অভিনয়ের সুযোগ এমন সময়ে সামনে আসে, যখন তিনি একাদশ শ্রেণিতে পড়ছিলেন। সেই সুযোগকে কাজে লাগাতেই শেষ পর্যন্ত পড়াশোনা থেকে সরে আসেন তিনি।
কারিনা জানান, সেই সময় অভিনয়কে নিজের জন্য সঠিক পথ বলে মনে হয়েছিল। নতুন পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার তাগিদও ছিল। ফলে আর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সময়ের সঙ্গে জীবনের দিকে ফিরে তাকালে সিদ্ধান্তটি নিয়ে তাঁর মনে আফসোস তৈরি হয়েছে।
অভিনেত্রীর মতে, মানুষ জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক সিদ্ধান্ত নেয়। কোনো সিদ্ধান্ত তখন সঠিক মনে হলেও পরবর্তী সময়ে সেটি নিয়ে নতুন করে ভাবনা আসতে পারে। তাঁর ক্ষেত্রেও এমনটাই হয়েছে। অভিনয়ে সাফল্য পাওয়ার পরও শিক্ষাজীবন অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়ার বিষয়টি তাঁকে মাঝে মাঝে ভাবায়।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই দুই ছেলের পড়াশোনার বিষয়ে বেশ সচেতন কারিনা। তিনি চান, তাঁর সন্তানরা অন্তত নিজেদের শিক্ষাজীবন সম্পূর্ণ করুক। এরপর তারা যে পেশাই বেছে নিক, সে বিষয়ে তাদের স্বাধীনতা থাকবে। তাঁর কাছে চলচ্চিত্র পরিবারে জন্ম নেওয়া মানেই ভবিষ্যতে অভিনয় করতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
বড় ছেলে তৈমুরের ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেন কারিনা। তাঁর ভাষ্য, আপাতত ছেলের অভিনয়ের প্রতি তেমন আগ্রহ নেই। বরং খেলাধুলার প্রতি তার ঝোঁক বেশি। ক্রিকেট কিংবা ফুটবলের প্রতি আগ্রহ রয়েছে তৈমুরের এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্নও তার রয়েছে।
তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে তৈমুরের পছন্দ বদলে যেতে পারে বলেও মনে করেন কারিনা। ভবিষ্যতে সে অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নিলে যেমন আপত্তি নেই, তেমনি অন্য কোনো ক্ষেত্রকে বেছে নিলেও তাঁর সমর্থন থাকবে। সন্তানের নিজের পছন্দ ও আগ্রহকে গুরুত্ব দেওয়াই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
দুই ছেলের মা হওয়ার অভিজ্ঞতাও কারিনার কাছে বিশেষ। তিনি জানান, তাঁর নিজের কোনো ভাই ছিল না। ফলে দুই ছেলেকে একসঙ্গে বড় হতে দেখা তাঁর জন্য একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। সন্তানদের বেড়ে ওঠার প্রতিটি ধাপ থেকেই তিনি নতুন কিছু শিখছেন বলে জানান এই অভিনেত্রী।
২০১২ সালে অভিনেতা সাইফ আলী খানকে বিয়ে করেন কারিনা কাপুর। তাদের দুই সন্তান তৈমুর আলী খান ও জাহাঙ্গীর আলী খান। ২০০০ সালে ‘রিফিউজি’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেকের পর ধীরে ধীরে বলিউডে নিজের জায়গা শক্ত করেন তিনি। ‘জাব উই মেট’, ‘থ্রি ইডিয়টস’, ‘চামেলি’সহ বেশ কিছু সফল সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি পান কারিনা।
ক্যারিয়ারে সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনেও এখন তিনি নতুন এক উপলব্ধির কথা বলছেন। নিজের অসম্পূর্ণ শিক্ষাজীবনের আক্ষেপ থেকেই সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও সচেতন হয়েছেন—কারিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই বিষয়টিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।



