রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভেনিসের মঞ্চে বাংলাদেশের সিনেমা, তৈরি হলো নতুন ইতিহাস

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম

ভেনিসের মঞ্চে বাংলাদেশের সিনেমা, তৈরি হলো নতুন ইতিহাস

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৮৩তম আসরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোনো পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবটির প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে। নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ অংশ নিচ্ছে ‘ওরিজন্তি’ প্রতিযোগিতা বিভাগে। দেশের চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটি একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইতালির লিডো দি ভেনেজিয়ায় বুধবার জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এবারের ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের খ্যাতিমান নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী, প্রযোজক ও চলচ্চিত্রকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রথম দিন থেকেই উৎসব প্রাঙ্গণে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে চলচ্চিত্রের এই আন্তর্জাতিক আয়োজন।

ভেনিসের এবারের আসরে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ, এর আগে বাংলাদেশি চলচ্চিত্র উৎসবটিতে উপস্থিত হলেও কোনো পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলাদেশি সিনেমা প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে জায়গা করে নিতে পারেনি। এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে বাংলাদেশের সিনেমা নতুন পরিচিতি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ নির্বাচিত হওয়াকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দর্শক, চলচ্চিত্রবোদ্ধা ও নির্মাতাদের সামনে দেশের সিনেমার গল্প, নির্মাণশৈলী ও শিল্পভাবনা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে এই ছবির মাধ্যমে। একই সঙ্গে দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্যও এটি আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের কাজ উপস্থাপনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ভেনিসযাত্রা অবশ্য এবারই শুরু হয়নি। এর আগে ২০১০ সালে নির্মাতা ইশতিয়াক জিকোর স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘৭২০ ডিগ্রি’ ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হয়েছিল। তবে এবারই প্রথম বাংলাদেশের কোনো পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবটির প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে অংশ নিচ্ছে। ফলে আগের সেই অর্জনের ১৬ বছর পর দেশের চলচ্চিত্র আবারও ভেনিসের মঞ্চে নতুন মাত্রা যোগ করল।

ভেনিস উৎসবের ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার কারণে এখানে কোনো চলচ্চিত্রের নির্বাচিত হওয়া নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আলোচিত ও সম্ভাবনাময় চলচ্চিত্র এ উৎসবের বিভিন্ন বিভাগে প্রদর্শিত হয়ে থাকে। তাই প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে বাংলাদেশের একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমার অন্তর্ভুক্তি দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে আশাবাদের নতুন সঞ্চার করেছে।

এদিকে এবারের উৎসবের উদ্বোধনী আয়োজনেও ছিল বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ। উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হয়েছে ব্রিটিশ নির্মাতা ড্যানি বয়েলের ‘ইঙ্ক’। চলচ্চিত্রটির মধ্য দিয়ে সংবাদপত্র শিল্প ও বিশ্ব গণমাধ্যমের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে পর্দায় তুলে ধরা হয়েছে। উদ্বোধনী রাতে এর বিশ্ব প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

উৎসবের উদ্বোধনী আয়োজনে হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা জর্জ ক্লুনিকেও বিশেষ সম্মান জানানো হয়েছে। অভিনয় ও চলচ্চিত্র নির্মাণে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে আজীবন সম্মানসূচক ‘গোল্ডেন লায়ন’ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক তারকাদের উপস্থিতি ও সম্মাননার পাশাপাশি এবারের উৎসব বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্যও স্মরণীয় হয়ে উঠেছে।

আগামী ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। এ সময় বিভিন্ন দেশের আলোচিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবের প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর অংশগ্রহণকে ঘিরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের আগ্রহও ইতোমধ্যে বেড়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে বাংলাদেশের সিনেমার উপস্থিতি বাড়লেও ভেনিসের প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের এই প্রথম অংশগ্রহণকে দেশের চলচ্চিত্রের জন্য বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই সাফল্য ভবিষ্যতে বাংলাদেশের আরও নির্মাতা ও চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের জায়গা করে নেওয়ার পথকে সহজ করবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!