প্রকাশিত: মার্চ ২৪, ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার কারণে সম্ভাব্য জ্বালানিসংকট মোকাবেলায় ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি পরিমাণ তেল জাতীয় মজুদ থেকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহ থেকেই এই তেল সরবরাহ শুরু হবে।
গত সপ্তাহে জাপান সরকার বেসরকারি খাতের মজুদ থেকে ১৫ দিনের সমপরিমাণ তেল ছাড়ার অনুমোদন দিয়েছিল। এবার রাষ্ট্রীয় মজুদ থেকেও তেল সরবরাহ কার্যক্রম বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাপান প্রাকৃতিক সম্পদে দরিদ্র হলেও বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশ। দেশের মোট অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশের বেশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি হয়। ফলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে দেশটি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।
প্রসঙ্গত, ওয়াশিংটনে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাপানকে ওই অঞ্চলে নৌবাহিনী পাঠানোর আহ্বান করেছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি এই প্রস্তাবে অনড় ছিলেন। তিনি বলেন, জাপানের যুদ্ধোত্তর সংবিধান এই ধরনের পদক্ষেপে বাধা দেয়। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা জাপান ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, দেশের শোধনাগারে ৪৫ দিনের চাহিদার সমপরিমাণ বা প্রায় ৮ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হবে। এই পরিমাণ ২০১১ সালের ফুকুশিমা পারমাণবিক দুর্ঘটনার পর দেওয়া সরবরাহের তুলনায় ১.৮ গুণ বেশি।
গত বছরের শেষে জাপানের মোট তেল মজুদ ছিল প্রায় ৪৭ কোটি ব্যারেল, যা দেশের ২৫৪ দিনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার পেট্রলসহ বিভিন্ন জ্বালানি পণ্যে ভর্তুকি চালু করেছে। এতে প্রতি লিটার পেট্রলের দাম প্রায় ১৭০ ইয়েনে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা এর আগে ১৯০.৮ ইয়েনে পৌঁছেছিল।



