রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় সৌদিতে পাকিস্তানের সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২৬, ০৯:১১ পিএম

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় সৌদিতে পাকিস্তানের সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন

ছবি: সংগৃহীত

চলমান ইরান–সংশ্লিষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই সৌদি আরবে বড় পরিসরে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে পাকিস্তান। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামাবাদ ইতোমধ্যে হাজার হাজার সেনা, যুদ্ধবিমান এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রিয়াদে মোতায়েন করেছে। এই পদক্ষেপকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, প্রায় আট হাজারের মতো সেনা সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিমান বহরও সেখানে অবস্থান করছে, যেখানে প্রায় ১২ থেকে ২৪টি যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এর মধ্যে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে নির্মিত আধুনিক যুদ্ধবিমানও রয়েছে।

সূত্রগুলো আরও জানায়, এই মোতায়েনের মধ্যে অন্তত দুটি ড্রোন বহর এবং একটি আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব বাহিনী মূলত সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে এবং সম্ভাব্য যেকোনো আক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তার উদ্দেশ্যে স্থাপন করা হয়েছে।

একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সদস্যরা সৌদি আরবে উপদেষ্টা ও প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করবে। তারা স্থানীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিরক্ষা কৌশল উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

এর আগে গত বছর দুই দেশের মধ্যে একটি গোপনীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তিতে বলা হয়, যেকোনো দেশের ওপর বহিঃশত্রুর আক্রমণ হলে উভয় দেশ পারস্পরিকভাবে একে অপরকে সহায়তা করবে। এই চুক্তিকে কেন্দ্র করেই সাম্প্রতিক এই বড় সামরিক উপস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় পাকিস্তানের এই ভূমিকা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই ইসলামাবাদ রিয়াদকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ সহায়তা দিয়ে আসছে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক সংকটের সময় সৌদি আরবও পাকিস্তানকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করে আসছে।

সূত্রগুলো আরও জানায়, ভবিষ্যতে এই সামরিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি কোনো কোনো নিরাপত্তা সূত্র ৮০ হাজার পর্যন্ত সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে পাকিস্তানের এই সামরিক উপস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে পাকিস্তান, সৌদি আরব বা সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরবে পাকিস্তানের বড় পরিসরের সামরিক মোতায়েন আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!