প্রকাশিত: মে ২৯, ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গাজার আরও বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি দেশটির সামরিক বাহিনীকে গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বৃহস্পতিবার অধিকৃত পশ্চিম তীর অঞ্চলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে বাড়ানো হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে উপত্যকার বড় একটি অংশ সামরিক নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং এখন সেই পরিধি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রথম ধাপে গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই পুরো গাজা অঞ্চল নিজেদের দখলে নেওয়ার পক্ষে স্লোগান দেন। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। মানবাধিকার পর্যবেক্ষক ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি নাগরিক আরও সংকুচিত এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সংঘাত ও ধ্বংসযজ্ঞে গাজার জনজীবন এমনিতেই ভয়াবহ সংকটের মধ্যে রয়েছে। খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। এর মধ্যে নতুন করে ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর ঘোষণা মানবিক পরিস্থিতিকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো কিছু নকশায় দেখা গেছে, গাজার বড় একটি অংশ ইতোমধ্যেই সামরিক নিয়ন্ত্রণের আওতায় রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল, নিরাপত্তা এবং বসবাসের জায়গা দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত সেনা উপস্থিতি সীমিত রাখার কথা ছিল। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে নতুন বাস্তবতা তৈরির চেষ্টা চলছে, যা শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটকে ঘিরে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজর এখন গাজার পরিস্থিতির দিকে। আন্তর্জাতিক মহল থেকে সংযম ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানানো হলেও বাস্তব পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও মানবিক সুরক্ষাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



