প্রকাশিত: আগস্ট ১, ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
গাজাকে কেন্দ্র করে নতুন একটি সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হলেও তা ঘিরে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ধাপে ধাপে অস্ত্র সমর্পণে নীতিগতভাবে সম্মতি জানিয়েছে বলে বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। তবে এর বিনিময়ে গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী, হামাস পর্যায়ক্রমে অস্ত্র সমর্পণ করবে। একই সঙ্গে গাজায় সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে প্রশাসনিক দায়িত্ব ধীরে ধীরে একটি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের বিষয়েও আলোচনা চলছে। এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও ইসরায়েল সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি।
ইসরায়েলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র হয়েছে—এ বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। তাদের দাবি, নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে সেনা প্রত্যাহার করলে ভবিষ্যতে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এদিকে দেশটির কট্টরপন্থি রাজনৈতিক নেতারা সম্ভাব্য সমঝোতার কড়া বিরোধিতা করছেন। তাদের বক্তব্য, হামাসের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধ করা হলে তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তারা গাজায় সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বর্তমানে এক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা বাস্তবায়নে আগ্রহী, অন্যদিকে তাঁর জোটের কট্টরপন্থি অংশ সেনা প্রত্যাহারের বিরোধিতা করছে। ফলে যেকোনো সিদ্ধান্ত তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, নেতানিয়াহু আপাতত সীমিত কিছু পদক্ষেপের মাধ্যমে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করতে পারেন। তবে পুরো গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা এখনো খুবই ক্ষীণ। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ জাতীয় নির্বাচন এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণও তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির ওপর।



