প্রকাশিত: মে ৩১, ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগ এবং দ্রুত জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে তেল আবিবে বড় ধরনের বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন হাজারো মানুষ। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও চলমান নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে এই আন্দোলন নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বিক্ষোভকারীরা সরকারের বর্তমান নীতির কড়া সমালোচনা করে দ্রুত রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানান।
শনিবার রাতে আয়োজিত এই বিক্ষোভে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ সরকারের নীতির বিরোধিতা করে আগাম নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নেয়। বিশেষ করে বর্তমান প্রশাসনের কট্টর রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচক গোষ্ঠীগুলোর অংশগ্রহণ এবারের কর্মসূচিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা তেল আবিবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে মিছিল করেন। শহরের অন্যতম ব্যস্ত সড়কেও তাদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। পরে তারা একটি খোলা প্রাঙ্গণে একত্রিত হয়ে নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান।
একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হস্তক্ষেপ করে। বিক্ষোভকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে পুলিশ ব্যবস্থা নেয় এবং কিছু এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বর্তমান সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সীমান্ত উত্তেজনা সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রেও সরকারের নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন তারা। আন্দোলনকারীরা মনে করছেন, নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
এদিকে উত্তরাঞ্চলে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় কঠোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সেখানে ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযানে সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এবং সীমান্ত পরিস্থিতির অবনতি একসঙ্গে ইসরায়েল সরকারের ওপর নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।



