প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করায় সতর্ক অবস্থানে গেছে কুয়েত। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কায় দেশটি সাময়িকভাবে নিজেদের আকাশপথ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে কার্যকর হওয়া এই পদক্ষেপে কুয়েতের আকাশসীমায় সব ধরনের বেসামরিক বিমান চলাচলে সাময়িক সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রী নিরাপত্তা ও আকাশপথে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতেই এই জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫০ মিনিট থেকে কুয়েতের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কুয়েতগামী একাধিক বিমানকে বিকল্প গন্তব্যে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের পর উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই মধ্যে কুয়েত সরকার অভিযোগ করেছে, তাদের নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে ‘ইরানি আগ্রাসনের’ আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন অবস্থায় দেশের আকাশপথকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রাখা হচ্ছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি কমে গেলে এবং আকাশপথ নিরাপদ বিবেচিত হলে পুনরায় বিমান চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।
এদিকে কুয়েতের এই সিদ্ধান্তে উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক বিমান পরিবহন ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বহু যাত্রী নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারার শঙ্কায় পড়েছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা বিকল্প পথ ব্যবহার এবং সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পূর্বনির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে বিভিন্ন উড়োজাহাজকে অন্য গন্তব্যে পাঠানো হচ্ছে। যাত্রীদের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভ্রমণ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি সামরিক অবস্থানের কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে যেসব দেশে বিদেশি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব অঞ্চলকে ঘিরে বাড়তি সতর্কতা দেখা যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে কুয়েতের আকাশসীমা বন্ধের সিদ্ধান্তকে নিরাপত্তা রক্ষায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তেহরানও অঞ্চলজুড়ে অবস্থানরত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এতে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা আরও বেড়ে গেছে।



