রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গাজায় মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ৭২ হাজার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম

গাজায় মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ৭২ হাজার

ফাইল ছবি

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা কার্যকর থাকার দাবি থাকলেও সহিংসতা থামছে না। গত ৪৮ ঘণ্টায় নতুন করে হামলায় অন্তত দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১১ জন। চলমান সংঘাতের কারণে অঞ্চলটিতে মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় হতাহত মানুষের সংখ্যা নতুন করে বেড়েছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও ধারাবাহিকভাবে হামলার ঘটনা ঘটছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জীবন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের বড় একটি অংশ গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, অনেক আহত ব্যক্তির দ্রুত অস্ত্রোপচার ও নিবিড় চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর গাজায় প্রাণহানির সংখ্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, নিহত মানুষের সংখ্যা ৭২ হাজার ৯৯৩ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন এক লাখ ৭৩ হাজার ২৩০ জনেরও বেশি মানুষ। এসব সংখ্যার বড় অংশই নারী ও শিশু বলে দাবি করা হয়েছে।

চলমান সংঘাতের কারণে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক হাসপাতাল সীমিত সক্ষমতায় চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আহতদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরাও চরম চাপের মুখে রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কার্যকর শান্তি উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলের আরও সক্রিয় ভূমিকার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষা এবং জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।

গাজার সাধারণ মানুষ এখনো অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছেন। নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসার সংকটের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত নতুন হামলার শঙ্কা তাদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!