প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা এখনো বাতিল করা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ। তার দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিকল্পনাটি আপাতত স্থগিত রেখেছেন। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে এটি বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে। এমনকি গাজা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য উপত্যকাটিকে জনশূন্য করাই একমাত্র পথ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের আয়োজিত একটি সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে কাৎজ গাজা নিয়ে তার সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গাজা উপত্যকার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য ইসরাইল বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। প্রয়োজনে সমুদ্রপথ, আকাশপথসহ বিভিন্ন উপায়ে সেখানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা জানান তিনি।
কাৎজের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং মার্কিন প্রশাসন বিষয়টি আপাতত স্থগিত রেখেছে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তবে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, সামরিক অভিযান, অবরোধ এবং বাস্তুচ্যুতির ধারাবাহিকতার মাধ্যমে গাজার বাসিন্দাদের স্থায়ীভাবে উপত্যকা ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে। তারা এ ধরনের পরিকল্পনাকে ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ভূমি থেকে উচ্ছেদের উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও গাজা উপত্যকা নিয়ে একটি বিতর্কিত প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই প্রস্তাবে গাজার নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেওয়া এবং সেখানকার ফিলিস্তিনিদের অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। প্রস্তাবটি প্রকাশের পর বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের সমর্থিত যুদ্ধবিরতি উদ্যোগে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক গাজা থেকে বের করে না দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, কেউ গাজা ছেড়ে গেলে ভবিষ্যতে তার ফিরে আসার সুযোগ থাকবে। ফলে একদিকে যুদ্ধবিরতি ও ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমিতে থাকার নিশ্চয়তার কথা বলা হলেও অন্যদিকে ইসরাইলি সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর বক্তব্য নতুন করে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
কাৎজের বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন বলেছেন, গাজার ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি এবং সিনেটর জেফ মার্কলি আগেই সতর্ক করেছিলেন। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য তাদের সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করেছে বলে তিনি মনে করেন।
গাজা নিয়ে ইসরাইলের সামরিক অভিযান, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি এবং ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে গাজার বাসিন্দাদের স্থায়ীভাবে উচ্ছেদের যেকোনো উদ্যোগ মানবিক ও আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করবে, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
কাৎজের সর্বশেষ বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নেওয়ার ধারণাটি ইসরাইলি সরকারের অন্তত কিছু পর্যায়ে এখনো আলোচনার বাইরে যায়নি। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবে কীভাবে এবং আদৌ বাস্তবায়িত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি।



