প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২৬, ০১:৫১ পিএম
যুদ্ধ ও দীর্ঘস্থায়ী ধ্বংসযজ্ঞের কারণে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রের সংখ্যা থাকলেও সেগুলোর অধিকাংশই পুরোপুরি সচল নয়। প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, শয্যা এবং স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতির কারণে লাখো মানুষ প্রয়োজনের সময় চিকিৎসা পাচ্ছেন না। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন বাস্তুচ্যুত পরিবার, শিশু, বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা।
বর্তমানে গাজার প্রায় ২০ লাখ মানুষের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার শয্যা রয়েছে মাত্র ২ হাজার ২০০টি। যুদ্ধের আগে যে পরিমাণ চিকিৎসা অবকাঠামো ছিল, ধ্বংসযজ্ঞের কারণে তার বড় একটি অংশ এখন আর ব্যবহারযোগ্য নয়। গাজার ৩৪টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ১৯টি কোনো না কোনোভাবে আংশিক সেবা দিতে পারছে। অনেক হাসপাতালের ওয়ার্ড, অস্ত্রোপচার কক্ষ ও পরীক্ষাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
চিকিৎসাসংকটের পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবনযাপনও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। নিরাপদ পানির অভাব, দুর্বল পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং অতিরিক্ত গরমের কারণে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, জলবসন্ত ও অন্যান্য অসুস্থতা দেখা যাচ্ছে। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনিসহ দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসাও ব্যাহত হচ্ছে।
বাস্তুচ্যুতি শিবিরে থাকা মানুষের জন্য চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোও বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া, যাতায়াতের অর্থের অভাব এবং শারীরিক দুর্বলতার কারণে অনেকেই চিকিৎসা নিতে পারছেন না। ফলে সামান্য অসুস্থতাও সময়মতো চিকিৎসার অভাবে গুরুতর আকার ধারণ করছে।
স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতাল পুনর্গঠন যথেষ্ট নয়। প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো দ্রুত সচল করার পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত মানুষের কাছে সরাসরি চিকিৎসা, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসাকর্মী ও সরঞ্জামের ঘাটতি পূরণ করাও প্রয়োজন। যুদ্ধের কারণে ভেঙে পড়া এই স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে গাজায় মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।



