রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গাজায় হামাসের জ্যেষ্ঠ সদস্য আটকের দাবি ইসরায়েলের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম

গাজায় হামাসের জ্যেষ্ঠ সদস্য আটকের দাবি ইসরায়েলের

ফাইল ছবি

গাজার নগরী গাজা সিটিতে সামরিক অভিযান চালানোর সময় হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ মঙ্গলবার এ দাবি করেন। তবে আটক ব্যক্তির পরিচয়, তার অবস্থান কিংবা কীভাবে তাকে আটক করা হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, গাজা সিটিতে চলমান সামরিক তৎপরতার মধ্যেই হামাসের ওই গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে আটক করা হয়। ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আটক ব্যক্তি হামাসের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে তার নাম বা পদ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

অন্যদিকে, গাজা থেকে পাওয়া তথ্য ইসরায়েলের দাবির সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। গাজার একটি স্থানীয় সূত্রের দাবি, হামাসের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে আটক করার উদ্দেশ্যে ইসরায়েলি বাহিনী বিশেষ অভিযান চালালেও সেটি সফল হয়নি। ওই সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযান চলাকালে ইসরায়েলি কমান্ডোদের উপস্থিতি শনাক্ত হয়ে যায়। পরে বিমান সহায়তার মধ্যে বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা মোটরসাইকেলে করে ওই এলাকা ত্যাগ করেন।

হামাসের পক্ষ থেকেও ইসরায়েলি অভিযানের বিষয়ে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। সংগঠনটির গাজা কার্যালয়ের প্রধান ইসমাইল আল-থাওয়াবতা জানান, অভিযান পরিচালনার সময় ইসরায়েলি কমান্ডোরা শনাক্ত হয়ে যায়। তার দাবি, হামাসের সদস্যরা পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক হয়ে যাওয়ায় ইসরায়েলি বাহিনীর পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হয়।

এদিকে হামাসের সদস্য আটকের দাবির মধ্যেই গাজা সিটিতে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও হামলা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চালানো হামলায় অন্তত চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও একজন নারী রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

গাজা সিটিতে সামরিক তৎপরতা বাড়ায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হামলা, অভিযান এবং বাস্তুচ্যুতির কারণে নগরীর সাধারণ মানুষের জীবন আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে হামাসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য আটকের বিষয়ে ইসরায়েলের দাবি এবং গাজার স্থানীয় সূত্রের বক্তব্যে পার্থক্য থাকায় ঘটনাটির প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে এখনো স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি।

গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান কতটা সফল হয়েছে এবং হামাসের কোনো জ্যেষ্ঠ সদস্য সত্যিই আটক হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে। এরই মধ্যে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের কারণে ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!