রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলে প্রস্তুত ইউরোপের চার দেশ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ১০:৩৯ এএম

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলে প্রস্তুত ইউরোপের চার দেশ

প্রতীকী ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার অগ্রগতির পর নতুন ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে ইউরোপের চার প্রভাবশালী দেশ। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নির্ধারিত শর্ত বাস্তবায়ন হলে দেশটির ওপর আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে তারা প্রস্তুত রয়েছে।

রোববার প্রকাশিত এক যৌথ ঘোষণায় দেশগুলো জানায়, ইরান যাতে ভবিষ্যতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী তারা। একই সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগকে সফল করতে সব ধরনের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসনে একটি সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে। এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, তার দেশের মধ্যস্থতায় আলোচনায় অগ্রগতি এসেছে এবং একটি সমঝোতা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতা স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবুও জানা গেছে এতে লেবাননসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময় থেকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ ও সামরিক তৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আগামী ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় আরও বিস্তৃত সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলবে। সেই আলোচনায় নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়েও সিদ্ধান্ত হতে পারে।

অন্যদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর ঘোষণা এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, কয়েক মাসের স্থবিরতার পর এই পথ আবারও সচল করা হবে। একই সঙ্গে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত কিছু বাধাও তুলে নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব দেখা গেছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে এবং এশিয়ার কয়েকটি শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমার পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!