প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
ইরানের রাজনৈতিক চাপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। তবে কিছু কূটনৈতিক সূত্র দাবি করেছে, কাতার, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান যৌথভাবে আলোচনার মাধ্যমে এই সমঝোতা নিশ্চিত করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত অঞ্চলে তীব্র সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এমন প্রেক্ষাপটে এই যুদ্ধবিরতিকে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনো স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি। দেশটির সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা এখনো রাজনৈতিক নির্দেশনার অধীনেই কাজ করছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী দক্ষিণ লেবাননে যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা তাদের রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো আলোচনা চলমান রয়েছে। তাই পূর্ণাঙ্গ চুক্তির বিস্তারিত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
একজন উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা চালিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। এতে করে লেবাননের সংঘাতে ইরানের প্রভাব ও ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এর আগে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় একাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করে। সেই ঘটনার পর থেকেই যুদ্ধবিরতির জন্য কূটনৈতিক চাপ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক তৎপরতা পরিস্থিতি বদলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা হলেও কমতে পারে। তবে স্থায়ী শান্তির জন্য এখনো রাজনৈতিক সমঝোতা ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।



