প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধি, প্রশাসনিক সংস্কার এবং নির্বাচনী ব্যবস্থায় পরিবর্তনের দাবিতে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরে চলমান আন্দোলন ক্রমেই সহিংস রূপ ধারণ করেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। আহত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যাপক ধরপাকড়, কারফিউ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলটির জনগণ কর্মসংস্থানের সংকট, প্রশাসনিক বৈষম্য এবং প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে অসন্তুষ্ট। এসব দাবির প্রেক্ষাপটে জুন মাসের শুরু থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। পরে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘাত তীব্র হওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। এতে বহু মানুষ আটক হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক শতাধিক আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরদিকে সংঘর্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও হতাহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বর্তমানে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে রাওয়ালকোট শহর। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি বহু এলাকায় চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত করে দেওয়া হয়েছে এবং জনসমাগমের ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
চলমান অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনে। ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক বাজার আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ থাকায় খাদ্যপণ্য ও ওষুধ সংগ্রহে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ওষুধের দোকান বন্ধ থাকায় রোগীদের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটও বাড়ছে। ফলে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা আরও গভীর হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দাবি-দাওয়ার শান্তিপূর্ণ সমাধানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তারা সংলাপের মাধ্যমে সংকট নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আজাদ কাশ্মীরের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক অচলাবস্থা, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং সরবরাহ সংকট মিলিয়ে অঞ্চলটিতে এক ধরনের মানবিক চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



