প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম
ফিলিস্তিন প্রশ্নকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে দৃশ্যমান পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশটির মূলধারার রাজনীতিতে ইসরাইলের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন প্রায় অলিখিত নিয়ম হিসেবে বিবেচিত হলেও সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল সেই প্রচলিত ধারণায় বড় ধরনের পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিস্তিনের মানবাধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া প্রার্থীরা এখন আগের তুলনায় বেশি জনসমর্থন পাচ্ছেন।
সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনপন্থি অবস্থানের জন্য পরিচিত একাধিক প্রার্থী উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। নির্বাচনী ফলাফলে দেখা গেছে, ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনাকারী এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার প্রার্থীদের প্রতি ভোটারদের সমর্থন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী কয়েকজন রাজনীতিকও পরাজয়ের মুখ দেখেছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গাজায় চলমান সংঘাত এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নতুন ধরনের জনমত তৈরি করেছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের বড় একটি অংশ মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন এবং যুদ্ধবিরোধী অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে ভোট দিচ্ছেন। ফলে ফিলিস্তিন ইস্যু এখন শুধু পররাষ্ট্রনীতির বিষয় নয়, বরং নির্বাচনী রাজনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
জনমত জরিপগুলোতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার ইসরাইলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ও সামরিক সহায়তার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছেন। অনেকেই মনে করছেন, করদাতাদের অর্থ বিদেশে সামরিক সহায়তায় ব্যয় না করে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার সমাধানে ব্যয় করা উচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান—উভয় দলের জন্যই এই পরিবর্তিত জনমত একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতের নির্বাচনে ভোটারদের মনোভাবকে গুরুত্ব না দিলে রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ভোটাররা মানবাধিকার ও নৈতিক অবস্থানকে আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সার্বিকভাবে, সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ফিলিস্তিন প্রশ্ন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। আগামী দিনের নির্বাচনী কৌশল, পররাষ্ট্রনীতি এবং রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে এই ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।



