প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় অবস্থিত রাম মন্দিরকে ঘিরে এবার সামনে এসেছে অনুদান ও মূল্যবান উপহার ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। ভক্তদের দেওয়া নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, রুপার ইটসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে মন্দির পরিচালনায় যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তিকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা।
দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় বিশ্বাসের অন্যতম প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই মন্দিরে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ভক্তের আগমন ঘটে। তাদের দেওয়া অনুদান ও উপহার যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
অভিযোগের সূত্রপাত হয় মন্দিরের হিসাব বিভাগে দায়িত্ব পালনকারী এক সাবেক কর্মকর্তার বক্তব্যের পর। তিনি আর্থিক লেনদেন ও অনুদান ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয় এবং প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অনুদান গণনা ও সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা কয়েকজনের নামও রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে বহু ভক্ত দাবি করেছেন, তারা মন্দিরে যে মূল্যবান সামগ্রী দান করেছিলেন, সেগুলোর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাচ্ছেন না। ফলে অনুদানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে মন্দির পরিচালনাকারী ট্রাস্টের দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল ব্যক্তি পদত্যাগ করেছেন। যদিও ট্রাস্টের পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সব অভিযোগ স্বীকার করা হয়নি, তবুও তদন্তের ফলাফলের দিকে নজর রয়েছে দেশজুড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গে বিপুল অর্থের সম্পর্ক থাকায় এ ধরনের অভিযোগ দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা জরুরি। এতে জনআস্থা পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।



