প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬, ০৮:২৯ এএম
চার বছরের বেশি সময় ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন মোড় নিয়েছে। যুদ্ধের চাপ আরও বাড়াতে এবং রাশিয়াকে সামরিকভাবে চাপে ফেলতে ইউক্রেন এবার দেশটির অভ্যন্তরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালানোর কৌশল আরও জোরদার করেছে। সর্বশেষ অভিযানে রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপগ্রহ যোগাযোগ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে কিয়েভ। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেনি মস্কো।
ইউক্রেনের দাবি অনুযায়ী, সীমান্ত থেকে প্রায় পাঁচশ কিলোমিটার দূরে মস্কোর উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত দুবনা উপগ্রহ যোগাযোগ কেন্দ্র লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অল্প সময়ের ব্যবধানে একই স্থাপনায় এটি দ্বিতীয় হামলার ঘটনা। ইউক্রেনের ভাষ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রটি রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর যোগাযোগ সমন্বয়, গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং যুদ্ধ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে চাপের মুখে ফেলতেই এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকতে পারে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার কর্মকর্তারা যোগাযোগ কেন্দ্রে সরাসরি হামলার বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রে ভোরোবিওভ জানিয়েছেন, একটি উড়ন্ত হামলাযান শহরের একটি প্রশাসনিক ভবনে আঘাত হেনেছে। তবে ওই ঘটনায় কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। একই দিনে মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আরেকটি এলাকায় একটি উড়ন্ত হামলাযান একটি বসতবাড়িতে বিধ্বস্ত হলে ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ে। ওই ঘটনায় ছয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর খবরও জানিয়েছেন তিনি।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন দাবি করেছেন, সোমবার রাত থেকে রাজধানীমুখী ধারাবাহিক হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বহু উড়ন্ত হামলাযান ভূপাতিত করেছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে শত শত হামলাযান ধ্বংস করার দাবি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন সীমান্তবর্তী এলাকা ছাড়িয়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরের আরও গভীরে অভিযান পরিচালনায় জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি স্থাপনা, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং সামরিক গুরুত্বসম্পন্ন বিভিন্ন কেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এর ফলে যুদ্ধের প্রভাব রাশিয়ার সাধারণ মানুষের কাছেও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এসব হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেছেন, বেসামরিক মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে এবং নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি ইউক্রেনের এই কৌশলকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেন।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সামরিক চাপ বাড়ানোর এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের ফলে যুদ্ধের উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় দ্রুত যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত। ফলে সামনের দিনগুলোতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।



