প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। দেশটির জাতীয় সংসদের অনুমোদনের পর হান সেওং-সুক নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পথ সুগম করেছেন। প্রযুক্তি খাত ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা তার কর্মজীবনকে বিবেচনায় নিয়েই দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সংসদে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়ার মাধ্যমে তার নিয়োগ চূড়ান্ত হয়। এর ফলে রাষ্ট্রপতি লি জে মিয়ংয়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এখন পালন করবেন হান সেওং-সুক। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রধান লক্ষ্য হবে দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া এবং শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
সরকারে যোগ দেওয়ার আগে হান সেওং-সুক দীর্ঘ সময় দেশের প্রযুক্তি খাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম বৃহৎ ইন্টারনেটভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি উদ্ভাবন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন। তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি দেশীয় প্রযুক্তি খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল বলে সংশ্লিষ্ট মহলে মূল্যায়ন করা হয়।
পরবর্তীকালে তিনি রাষ্ট্রপতি লি জে মিয়ংয়ের মন্ত্রিসভায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, নতুন উদ্যোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা সম্প্রসারণে বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যবসা ও প্রযুক্তি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া সরকারের একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে শিল্পায়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির প্রসার, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে নতুন গতি আসতে পারে।
এছাড়া দেশটির প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করাও নতুন প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হান সেওং-সুকের নিয়োগকে দেশের প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার একটি কার্যকর সমন্বয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তার নেতৃত্বে দক্ষিণ কোরিয়া প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং শিল্প খাতের আধুনিকায়নে নতুন গতি পেতে পারে। এখন নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নেওয়া।



