প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ১০:০১ এএম
রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় আবারও রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৯১ জন। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৩০টি বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলতি বছরে কিয়েভের ওপর পরিচালিত সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি হিসেবে ঘটনাটি বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পরপরই উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষের সন্ধানে অভিযান শুরু করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে দাঁড়ায়। উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং কয়েকজন নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে কাজ চলছে।
কিয়েভের পূর্বাঞ্চলের দিনিপ্রো নদীর বাম তীরসংলগ্ন একটি আবাসিক এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখান থেকে একাধিক মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনার পর রাজধানীজুড়ে সরকারি শোক পালন করা হচ্ছে।
হামলার পর বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত দেশে ফিরে আসেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত একটি আবাসিক ভবন পরিদর্শন করে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সময়মতো পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ করা গেলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কমানো সম্ভব হতো।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়া কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি শত শত ড্রোন ব্যবহার করে সমন্বিত হামলা চালায়। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার ছিল উল্লেখযোগ্য, যা প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে সব লক্ষ্যবস্তু ঠেকানো সম্ভব হয়নি বলেও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং বিমানঘাঁটি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরে চালানো ইউক্রেনীয় হামলার জবাব হিসেবেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে আরও জটিল পর্যায়ে নিয়ে গেছে। বেসামরিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানির কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ দ্রুত বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের দাবিও আরও জোরালো হয়ে উঠছে।



