প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় আবারও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস ও সিরিক শহরের আশপাশে স্থানীয় সময় বুধবার রাতে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, বন্দর আব্বাসের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, সম্ভাব্য শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু মোকাবিলায় এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছিল। এর কিছু সময় পর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কোনারক ও চাবাহার এলাকার কাছেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।
বন্দর আব্বাস ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এলাকা। দেশটির বাণিজ্যিক ও সামরিক দিক থেকেও অঞ্চলটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ফলে এই এলাকায় যেকোনো ধরনের সামরিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
এর আগে ইরানের ভূখণ্ডে নতুন করে সামরিক অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে ইরানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচলের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য হুমকি কমানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে বন্দর আব্বাস এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানে আরও অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়। সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বন্দর আব্বাসসহ কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
এদিকে চাবাহার এলাকায় বিস্ফোরণের পর বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় পরিস্থিতি নিয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে ধারাবাহিক সামরিক তৎপরতা ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে ঘিরে যেকোনো অস্থিরতা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে বন্দর আব্বাস, সিরিক, চাবাহারসহ দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকাগুলোর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।



