রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাশিয়ায় গ্যাস প্ল্যান্টে বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশিসহ নিহত ১৫

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম

রাশিয়ায় গ্যাস প্ল্যান্টে বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশিসহ নিহত ১৫

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে একটি গ্যাসভিত্তিক শিল্প প্রকল্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে এক বাংলাদেশি কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৩৫ বাংলাদেশি কর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর একজন বাংলাদেশি কর্মী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে অবস্থিত একটি গ্যাসক্ষেত্র ও রাসায়নিক শিল্প প্রকল্পে বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে মোট ১৫ জন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশ, চীন ও রাশিয়ার নাগরিক রয়েছেন।

নিহত বাংলাদেশি নাগরিকের নাম জাকির হোসেন। তিনি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার বাসিন্দা। দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর থেকে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মোহাম্মদ আলাল হোসেন রাজুর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁকে খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

আহত ৩৫ বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে ছয়জনকে গুরুতর অবস্থায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তাঁদের আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আহত অন্য বাংলাদেশি কর্মীরাও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে মস্কোয় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসও ঘটনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের তথ্য জানাতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে দূতাবাসের পক্ষ থেকে একটি জরুরি যোগাযোগ নম্বর চালু করা হয়েছে। প্রকল্পটিতে কর্মরত অন্যান্য বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গেও দূতাবাস নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

নিহত জাকির হোসেনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। একই সঙ্গে তাঁর কর্মস্থলের বকেয়া পাওনা ও প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

দূর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সে বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের তদন্তের দিকেও নজর রাখছে বাংলাদেশ। আহত ও নিখোঁজ বাংলাদেশি কর্মীদের বিষয়ে পরবর্তী তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!