প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
গাজা উপত্যকায় নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসাকর্মীও রয়েছেন বলে জানা গেছে। ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণের কারণে উপত্যকাজুড়ে আবারও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতাল এলাকায় একটি ইসরায়েলি ড্রোন থেকে বিস্ফোরক নিক্ষেপ করা হয়। এতে হাসপাতালের নিরাপত্তা এলাকায় থাকা দুই কর্মী আহত হন। একই দিনে গাজার বিভিন্ন এলাকায়ও হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
হামলার শিকার এলাকাগুলোর মধ্যে আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবির, খান ইউনিস, গাজা সিটি ও রাফাহ উল্লেখযোগ্য। এসব এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, উত্তর গাজায় পৃথক অভিযানে হামাসের দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনকে সংগঠনটির সামরিক উৎপাদন বিভাগের কমান্ডার এবং অন্যজনকে নুসেইরাত এলাকার একটি সামরিক ইউনিটের কমান্ডার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ দাবির বিষয়ে হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও বিভিন্ন হামলায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, কামাল আদওয়ান হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোও হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। হাসপাতালটির নিরাপদ এলাকায় বিস্ফোরক হামলার ঘটনায় চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবিক সংস্থাগুলোর কাছে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
গাজার চিকিৎসা ব্যবস্থা ইতোমধ্যে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর উপত্যকার বেশিরভাগ হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। বর্তমানে অল্প কয়েকটি হাসপাতাল সীমিত সক্ষমতায় রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান ও গ্রেপ্তার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আল-খলিলের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সংগঠনগুলোর দাবি, বসতি স্থাপনকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের কারণে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। দীর্ঘ সংঘাতের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, চিকিৎসা ব্যবস্থা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।



