রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইরানের বন্দর অবরোধে যুক্তরাষ্ট্র, বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের চাপ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম

ইরানের বন্দর অবরোধে যুক্তরাষ্ট্র, বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের চাপ

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন করে অবরোধ কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী মঙ্গলবার থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন এই পদক্ষেপের আওতায় শুধুমাত্র ইরানি জাহাজ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নৌযানগুলোকে লক্ষ্য করা হবে। তবে অন্যান্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ আগের মতোই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করতে পারবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে ব্যয় হচ্ছে, তা পূরণের জন্য এই পথ দিয়ে পরিবহন করা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রতিটি পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ হারে অর্থ আদায়ের বিষয়টি কার্যকর করা হবে।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ইরানের কয়েকটি বন্দরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতার পর সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। ওই সমঝোতায় যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।

তবে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দীর্ঘদিন ধরেই ইরান পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তিনি বলেন, নিরাপদ নৌ চলাচলের জন্য নির্ধারিত অর্থ নেওয়া নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তবে ২০ শতাংশ হার অত্যন্ত বেশি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া আগের সমঝোতা কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

নতুন পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হওয়ায় এই অঞ্চলের যেকোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!