প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে চলা সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটিয়ে ইরাক থেকে নিজেদের সব সেনা সদস্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনার পর এ বিষয়ে নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ ইরাকে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীর কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে গুটিয়ে নেওয়া হবে।
২০০৩ সালে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা উপস্থিতি বজায় ছিল। পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার বিভিন্ন যুক্তিতে এই উপস্থিতি অব্যাহত রাখা হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরাকের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদেশি বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা আগের তুলনায় কমে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক এক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে। ইরাকের জ্বালানি, গ্যাস এবং বিদ্যুৎ খাতে বড় পরিসরে বিনিয়োগের সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।
ইরাকের নেতৃত্ব জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের পর দেশটির ভেতরে কোনো বিদেশি সংস্থাকে অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম রাখার অনুমতি দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তারা বিদেশি বিনিয়োগ ও উন্নয়নমূলক সহযোগিতাকে স্বাগত জানাবে।
অন্যদিকে দুই দেশের মধ্যে নতুন জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণ নিয়েও আলোচনা চলছে। বিশেষ করে তেল পরিবহনের সক্ষমতা বাড়াতে একটি বৃহৎ পাইপলাইন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, সেনা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের সম্পর্ককে সামরিক নির্ভরতা থেকে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করবে।



