রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হামলার পর ইরাকজুড়ে সর্বোচ্চ সামরিক সতর্কতা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১, ২০২৬, ১১:৪১ এএম

হামলার পর ইরাকজুড়ে সর্বোচ্চ সামরিক সতর্কতা

সংগৃহীত

সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার জেরে ইরাকজুড়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সরকার। প্রধানমন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি ফালেহ আল-জাইদির নির্দেশে দেশের সব সামরিক ঘাঁটি, শিবির এবং গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্থাপনায় সতর্কতা ও প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলা, নাশকতা কিংবা অনুপ্রবেশের যেকোনো চেষ্টা প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কৌশলগত এলাকাগুলোতে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটার আগেই তা মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।

গত ২৯ জুলাই ইরাকে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের কয়েকটি অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের হামলার পর দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হামলার বিষয়ে ওয়াশিংটন ও রিয়াদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো মার্কিন বাহিনী ও সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই হামলায় তাদের অন্তত ২০ সদস্য নিহত এবং আরও ৩২ জন আহত হয়েছেন।

ঘটনার পর ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ হামলাকে দেশের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে নিন্দা জানায়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুমোদনের কথাও জানানো হয়েছে। বাগদাদের দাবি, অভিযানের বিষয়ে তাদের আগে থেকে কোনো ধরনের অবহিত করা হয়নি।

তবে সর্বশেষ জারি করা সামরিক সতর্কতার সঙ্গে ওই হামলার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। একই সঙ্গে কতদিন এই সতর্কতা বহাল থাকবে বা নির্দিষ্ট কোনো হুমকির ভিত্তিতে এটি জারি করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরাকের এই পদক্ষেপ সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতিরই অংশ। আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলে এর প্রভাব ইরাকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপরও পড়তে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!