প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন অবস্থানে সাম্প্রতিক যৌথ বিমান হামলা নিয়ে নতুন বক্তব্য দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরাক সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব গোষ্ঠীর কার্যক্রম শুধু একটি দেশের জন্য নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ। এ কারণে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সৌদি ভূখণ্ডে ড্রোন হামলার জবাবে পূর্ব ইরাকের কয়েকটি অস্ত্রভাণ্ডার ও সরবরাহকেন্দ্র লক্ষ্য করে যৌথ বিমান অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, এসব স্থাপনা ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং সেখান থেকেই বিভিন্ন হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।
তবে এই দাবির সঙ্গে একমত নয় ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনের নেতৃত্ব। সংগঠনটির এক জ্যেষ্ঠ নেতা দাবি করেছেন, সৌদি আরবে সংঘটিত আগের ড্রোন হামলাগুলোর দায় তাদের সংগঠন প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে এবং ওই ঘটনায় ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র বাহিনীর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
অন্যদিকে ইরাকের জনপ্রিয় গণসমাবেশ বাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় তাদের একাধিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের দাবি, অন্তত ২০ সদস্য নিহত এবং আরও ৩২ জন আহত হয়েছেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদির নেতৃত্বে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত হামলার বিষয়ে ইরাক সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নিন্দা বা বিস্তারিত অবস্থান জানানো হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।



