প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৯:২০ এএম
অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহে ইউরোপের দেশ বেলজিয়ামে ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জুন মাসের শেষ ভাগ থেকে জুলাইয়ের শুরু পর্যন্ত টানা তীব্র গরমে দেশটিতে প্রত্যাশিত সংখ্যার তুলনায় প্রায় দুই হাজার অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করে দেশটির জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিক হিসাবের চেয়েও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ১৮ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দুই হাজারে পৌঁছেছে। এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই সংখ্যা তুলনামূলক কম উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে নতুন তথ্য যুক্ত হওয়া এবং মৃত্যুর নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর চূড়ান্ত বিশ্লেষণে প্রাণহানির পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, তাপপ্রবাহ শেষ হওয়ার পরও কয়েক দিন ধরে মৃত্যুর হার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেনি। অতিরিক্ত গরমের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়া অনেক মানুষ পরে মারা যাওয়ায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণেই সর্বশেষ পরিসংখ্যানে মৃত্যুর সংখ্যা আগের হিসাবকে ছাড়িয়ে গেছে।
দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওয়ালোনিয়া অঞ্চল। এরপর রাজধানীকেন্দ্রিক ব্রাসেলস এবং ফ্ল্যান্ডার্স অঞ্চলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে প্রবীণ ব্যক্তি, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মানুষ এবং শারীরিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিদের ওপর এই তাপপ্রবাহের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দুই হাজার সাল থেকে এ ধরনের তথ্য সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর বেলজিয়ামে কোনো তাপপ্রবাহে এটিই সর্বোচ্চ অতিরিক্ত প্রাণহানির ঘটনা। এর আগে দুই হাজার বিশ সালের তীব্র গরমে অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার পাঁচ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এবার সেই রেকর্ডও অতিক্রম করেছে চলতি বছরের তাপপ্রবাহ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বাড়ছে। এর ফলে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং অর্থনীতির ওপরও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা, স্বাস্থ্যসেবা জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।



