প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০১:০৮ পিএম
বিশ্বকাপের অন্যতম রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের সাক্ষী হলো সিয়াটলের মাঠ। নির্ধারিত সময়ের বেশির ভাগ অংশজুড়ে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারেনি সেনেগাল। দুই গোলের ব্যবধান গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখলেও শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন এবং অতিরিক্ত সময়ের অন্তিম প্রহরের গোলে জয় ছিনিয়ে নিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে বেলজিয়াম।
ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে সেনেগাল। দ্রুত আক্রমণ গড়ে তুলে তারা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে হাবিব দিয়ারার দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি। এই গোলের পর আরও কয়েকটি আক্রমণ শানালেও ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি তারা। এক গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় সেনেগাল।
বিরতির পরও একই ছন্দ বজায় রাখে সেনেগাল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইসমাইলা সার ব্যবধান দ্বিগুণ করলে জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে হচ্ছিল। বেলজিয়ামের খেলোয়াড়রা তখনও আক্রমণের চেষ্টা চালালেও সেনেগালের রক্ষণভাগ ছিল যথেষ্ট সংগঠিত। সময় যত গড়াচ্ছিল, ততই শেষ ষোলোয় ওঠার স্বপ্নে বিভোর হয়ে উঠছিল সেনেগাল শিবির।
কিন্তু ম্যাচের শেষ কয়েক মিনিটে বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার অল্প আগে রোমেলু লুকাকু একটি গোল শোধ করে বেলজিয়ামকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ইউরি টিলেমান্স সমতাসূচক গোল করেন। মুহূর্তেই ম্যাচে ফিরে আসে উত্তেজনা এবং ফল নির্ধারণের জন্য খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়েও দুই দল সমানতালে লড়াই চালিয়ে যায়। যখন মনে হচ্ছিল, ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হবে টাইব্রেকারে, ঠিক তখনই ঘটে সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনা। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ দিকে বেলজিয়ামের এক খেলোয়াড়কে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ফাউল করা হলে ভিডিও সহায়তায় সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। সিদ্ধান্তটি নিয়ে মাঠে কিছুটা বিতর্কের সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত তা বহাল থাকে।
অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা সময়ে স্পট কিক থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ইউরি টিলেমান্স। তার এই গোলে ৩–২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম এবং শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই নিশ্চিত হয় তাদের শেষ ষোলোয় জায়গা।
এই জয়ের ফলে পরবর্তী পর্বে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ হবে যুক্তরাষ্ট্র ও বসনিয়ার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল। অন্যদিকে দুর্দান্ত শুরু করেও শেষ মুহূর্তের হতাশাজনক পরাজয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো সেনেগালকে। শেষ কয়েক মিনিটের ভুল এবং সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে আফ্রিকার প্রতিনিধিদের।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে শেষ মুহূর্তের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের তালিকায় এই ম্যাচটি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কারণ নিশ্চিত পরাজয়ের মুখ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বেলজিয়াম যে মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে, সেটিই শেষ পর্যন্ত তাদের জয় এনে দিয়েছে।



