রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জর্ডানের আকাশেই ধ্বংস ১০ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম

জর্ডানের আকাশেই ধ্বংস ১০ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র

ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এবার জর্ডানের আকাশসীমাকে লক্ষ্য করে ছোড়া ইরানের ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। শনিবার ভোরে পরিচালিত এই প্রতিরক্ষামূলক অভিযানে আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট সক্রিয়ভাবে অংশ নেয় এবং মাঝআকাশেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করা হয় বলে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি কিংবা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।

জর্ডানের সামরিক বাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ নাগরিকদের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তিনি বলেন, যেকোনো ধরনের বহিরাগত সামরিক হুমকি মোকাবিলায় তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও একইভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল ইউনিট দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহে অভিযান শুরু করে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো ঘিরে ফেলা হয় এবং নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরোগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলেও সাময়িক সতর্কতা জারি করা হয়।

এর আগে ইরান দাবি করেছিল, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত একাধিক বিদেশি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশযান হামলা চালিয়েছে। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানে কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি, নজরদারি ব্যবস্থা এবং অস্ত্র সংরক্ষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও এসব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

অন্যদিকে জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন এবং কাতারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে হামলা মোকাবিলা করেছে। বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশযান লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করা হয়েছে। তবে একটি দেশে ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন শিশু আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে উঠেছে। কয়েক মাস আগে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হলেও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় অঞ্চলজুড়ে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করছে এবং সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান বজায় রাখছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, কূটনৈতিক সমাধানের পথ দ্রুত কার্যকর না হলে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। ফলে শুধু সংশ্লিষ্ট দেশ নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!