প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণার কথা জানিয়েছে ইয়েমেনভিত্তিক ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে তারা এই পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। গোষ্ঠীটির দাবি, ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার প্রতিক্রিয়াতেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির ভিত্তিতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে সামুদ্রিক অবরোধ কার্যকর করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলমান অবরোধ ও হামলা আর মেনে নেওয়া হবে না।
হুথিদের অভিযোগ, গত সপ্তাহে সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংঘটিত হামলার জন্য সৌদি আরব দায়ী। সেই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তারা সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। সৌদি আরব যদি আরও কোনো সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে তার আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে হুথি নেতৃত্ব।
একই সঙ্গে ইয়াহিয়া সারি ইয়েমেনের জনগণের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণকে প্রস্তুত থাকতে হবে এবং প্রয়োজন হলে প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে হবে। তিনি সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য সবাইকে মানসিক ও বাস্তব প্রস্তুতি নেওয়ারও আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণার ফলে লোহিত সাগর ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংযম প্রদর্শন এবং সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের আহ্বান জানানো হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনা প্রশমনের পরিবর্তে আরও বাড়ার আশঙ্কাই বেশি বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা।



