প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ০৮:২৪ এএম
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির আসন্ন তেহরান সফরকে ঘিরে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির সরকার মনে করছে, এই সফর দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা কমিয়ে কূটনৈতিক সংলাপের নতুন সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছে তেহরান।
সোমবার রাজধানী তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেন, ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি জানান, বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইসমাইল বাকায়ি আরও বলেন, ইরান সব সময় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। তিনি ইরাকের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি ইরানের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন। তার দাবি, ইরান কোনো ধরনের আঞ্চলিক সংঘাত বা উত্তেজনা চায় না। বরং আলোচনার মাধ্যমে বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধানই তেহরানের অগ্রাধিকার। তবে বাইরের শক্তির বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে এই অঞ্চলে অস্থিরতা আরও বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের মুখপাত্র অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ও হাসপাতালের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবিক নীতির পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, নিরীহ মানুষের জীবন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি এই অঞ্চলে অবস্থানরত বিদেশি সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা পরিচালিত হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্ভাব্য যেকোনো হুমকির জবাব দিতে ইরান প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ধারণা, ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান বিরোধ কমাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বাগদাদ একটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। এ লক্ষ্যে ভবিষ্যতে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ আয়োজনের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ইরান ও ইরাকের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্যই নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই আসন্ন এই সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।



