প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম
লোহিত সাগরকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইয়েমেনভিত্তিক ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
হুথিদের ঘোষণায় বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বন্দরে পণ্য পরিবহনকারী জাহাজগুলোকে তারা লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে এবং এসব জাহাজের চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবে। এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের পণ্যবাহী জাহাজ এই পথ ব্যবহার করে চলাচল করে। ফলে এ অঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা ও জ্বালানি বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে।
জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের তেল রপ্তানির বড় একটি অংশ লোহিত সাগরসংলগ্ন নৌপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে থাকে। ফলে এই রুটে যেকোনো ধরনের নিরাপত্তা সংকট বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য এবং সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে যুক্তরাষ্ট্র আগেও পদক্ষেপ নিয়েছে এবং প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত থাকবে।
তবে সামরিক ও কৌশলগত বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তব পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যদি ইয়েমেনে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে একই সময়ে একাধিক সংঘাত মোকাবিলা করতে হতে পারে। এতে সামরিক সক্ষমতা, যুদ্ধজাহাজ, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হুথি গোষ্ঠী অতীতেও ক্ষেপণাস্ত্র ও মানববিহীন আকাশযানের মাধ্যমে লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন সামরিক অভিযানের মুখোমুখি হলেও তারা তাদের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করেনি। ফলে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা দ্রুত বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন পরিস্থিতি শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাকেই প্রভাবিত করবে না, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতাও আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
অন্যদিকে কয়েকজন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, ইরানের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা ও চাপের কারণে হুথিদের সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ ও দীর্ঘমেয়াদি অভিযান পরিচালনার সক্ষমতাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে লোহিত সাগরকে ঘিরে নতুন করে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



