রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

স্পেন–ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল, নিরাপদে লাখো মানুষ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ১০:৪০ এএম

স্পেন–ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল, নিরাপদে লাখো মানুষ

সংগৃহীত

তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া এবং প্রবল বাতাসের প্রভাবে স্পেন ও ফ্রান্সের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। আগুনের দ্রুত বিস্তারে দুই দেশেই জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জীবন ও সম্পদ রক্ষায় কর্তৃপক্ষ ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এখন পর্যন্ত দুই দেশে মিলিয়ে দুই লাখ বিশ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্পেনে দাবানলের ভয়াবহতা বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও বহু বাসিন্দাকে ঘরের বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য, তীব্র বাতাস ও অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে আগুন দ্রুত এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে, ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে উঠেছে।

মাদ্রিদ অঞ্চলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি যে অনেক স্থানে দমকল বাহিনীর সরাসরি অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আগুন যাতে আরও বিস্তার লাভ না করে, সে লক্ষ্যে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ জনপদ রক্ষায় সামরিক বাহিনীর বিশেষ উদ্ধার ইউনিটও মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি অঞ্চলেও নতুন করে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বিভিন্ন স্থানের আগুন একত্রিত হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। ইতোমধ্যে হাজার হাজার হেক্টর বনভূমি ও কৃষিজমি আগুনে পুড়ে গেছে। বহু বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকটি জনপদ সম্পূর্ণ খালি করে দেওয়া হয়েছে।

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক। নতুন করে কয়েকটি এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ায় আরও হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ইতোমধ্যে প্রায় দুই লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুনের বিস্তারে বহু বনভূমি ধ্বংস হয়েছে এবং অসংখ্য ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্রান্সের সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি আগুন নেভানোর কাজে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে। কয়েকটি বন্ধু দেশ উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কাজে সহায়তার জন্য বিশেষ উড়োজাহাজ ও অন্যান্য সরঞ্জাম পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে।

দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুনের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ যে মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা ধোঁয়া ও আগুনে ঢেকে যাচ্ছে। অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে তাপপ্রবাহ, খরা এবং দাবানলের ঝুঁকি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছর ইতোমধ্যেই গত দুই দশকের গড়ের তুলনায় বেশি বনভূমি আগুনে ধ্বংস হয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, কার্যকর পরিবেশ সুরক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!