প্রকাশিত: আগস্ট ৫, ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে জনজীবন চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রার কারণে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে মে মাস থেকে এ পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি মানুষ তাপজনিত অসুস্থতায় চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় রাজধানী সিউলে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ মাত্রার তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইয়াংসান এলাকায় সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। গত ১২২ বছরের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের ইতিহাসে এটি দেশটির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে এই তীব্র তাপপ্রবাহ ধীরে ধীরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। রাজধানী সিউলসহ বিভিন্ন শহরে আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, চরম আবহাওয়া এখন সাময়িক ঘটনা নয়, বরং এটি নতুন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে।
রাজধানী সিউলে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ব্যক্তিদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। হাজার হাজার ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দার খোঁজখবর নিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। পাশাপাশি নগরের তাপমাত্রা কমাতে প্রতিদিন বিভিন্ন সড়কে পানি ছিটানো হচ্ছে এবং জনবহুল এলাকায় জলীয় কুয়াশা ছড়িয়ে গরমের তীব্রতা কমানোর চেষ্টা চলছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন প্রদেশে আকাশযানের মাধ্যমে সতর্কবার্তা প্রচার এবং জনসমাগমস্থলে তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয়, সরাসরি সূর্যের তাপ এবং পাহাড় অতিক্রম করে আসা উষ্ণ ও শুষ্ক বাতাসের প্রভাবে এই ভয়াবহ তাপপ্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড় ‘ডলফিন’-এর গতিপথের ওপর আগামী দিনের আবহাওয়ার পরিবর্তন অনেকটাই নির্ভর করবে। এটি দক্ষিণ কোরিয়ার দিকে অগ্রসর হলে বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে, অন্যথায় তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।



