প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন সামরিক অভিযানে অন্তত ৪৮ ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকায় একযোগে পরিচালিত এই অভিযানের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি, অবরোধ এবং অভিযানকে ঘিরে উত্তেজনাও বেড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাবলুসের পশ্চিমাঞ্চলের তেল শহরে পরিচালিত অভিযানে ৪০ জনের বেশি তরুণকে আটক করা হয়। এছাড়া পশ্চিম তীরের অন্যান্য এলাকা থেকে আরও আটজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভিযান চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনী একটি আবাসিক ভবন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সেটিকে অস্থায়ী জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে। পাশাপাশি শহরের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নিয়ন্ত্রণে রেখে বিভিন্ন বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক নির্দেশনার পর পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। কয়েক দিন আগে এক হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনার পর এই অভিযান শুরু হয় বলে জানা গেছে। এরপর থেকেই বিভিন্ন স্থানে সেনা উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে এবং ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, সামরিক অভিযানের পর কয়েকটি এলাকায় বসতি স্থাপনকারীদের একটি অংশ ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ও সম্পত্তিতে হামলা চালায়। এতে কয়েকটি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনায় কয়েকজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত থাকায় নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কাও বাড়ছে। জেনিনসহ পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ভোররাত থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সামরিক অভিযান ও পাল্টাপাল্টি সহিংসতা পশ্চিম তীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বেসামরিক মানুষের জীবনযাত্রাও এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংযম প্রদর্শন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা।



