রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি দুটি মসজিদে ইসরায়েলিদের অগ্নিসংযোগ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ১১:১৪ এএম

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি দুটি মসজিদে ইসরায়েলিদের অগ্নিসংযোগ

সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন করে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা কয়েকটি ফিলিস্তিনি গ্রামে হামলা চালিয়ে অন্তত দুটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থাপনার দেয়ালে হিব্রু ভাষায় উসকানিমূলক বাক্যও লেখা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নাবলুস অঞ্চলের একটি গ্রামে সদ্য নির্মিত একটি মসজিদে আগুন লাগানো হয়। মসজিদটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল এবং সেখানে নামাজ আদায়ের সব ধরনের প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছিল। আগুনে মসজিদের ভেতরের কিছু আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার পর দেয়ালে বিভিন্ন উসকানিমূলক লেখা পাওয়া যায়, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

একই সময়ে পশ্চিম তীরের আরেকটি গ্রামেও একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে স্থানীয় মুসল্লিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, তাদের গ্রামে এ ধরনের হামলার ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। শুধু উপাসনালয় নয়, সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং কর্মস্থলেও হামলার ঘটনা ঘটছে। তাদের ভাষ্য, এসব ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি সৃষ্টি এবং স্থানীয় জনগণের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত করার অংশ।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় অগ্নিসংযোগ ও দেয়ালে লেখা স্লোগানের প্রমাণ পাওয়া গেছে। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পুলিশ প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করছে। সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার নিন্দা জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

এদিকে পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সময়ে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে আটক করার খবরও পাওয়া গেছে।

ক্রমবর্ধমান এই সহিংসতায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্বনেতারা সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত, বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষা এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!