প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সফরে পৌঁছেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। রাজধানী ওয়াশিংটনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ধারণা, ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিই এই বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়েও দুই নেতার মধ্যে বিস্তৃত আলোচনা হতে পারে।
এদিকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদ এবং পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালানো হয়। যদিও সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে, তবু এই ঘটনা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
অন্যদিকে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর। সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার টুর্ক জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ তাদের নথিভুক্ত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার কিছু আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ইতিবাচক পরিবেশে এগোচ্ছে। তবে তিনি একই সঙ্গে ইঙ্গিত দিয়েছেন, আলোচনার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার পক্ষে তিনি নন। দ্রুত কার্যকর সমাধানে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
অপরদিকে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান সংঘাত থেকে সম্মানজনক উপায়ে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্র নানা ধরনের কূটনৈতিক চাপে রয়েছে। তেহরানের মতে, সামরিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে ওয়াশিংটন এখন নতুন কৌশল খুঁজছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ওয়াশিংটনে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকের ফলাফলের ওপর নির্ভর করতে পারে ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক উদ্যোগ, সামরিক অবস্থান এবং ইরানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ।



