প্রকাশিত: জুলাই ২৯, ২০২৬, ১১:১৮ এএম
ইরাকে ইরান-সমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর একাধিক ঘাঁটিতে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের ঘটনায় অন্তত আট সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী দাবি করেছে। হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের সমন্বয়ে ইরাকের বিভিন্ন স্থানে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, ইরাকের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা একাধিক ড্রোন দেশটির পূর্বাঞ্চল এবং রাজধানী রিয়াদের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সংঘাত বাড়াতে আগ্রহী নয়; কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র জোট এই হামলাকে ইরাকের সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, সরকারি নিরাপত্তা কাঠামোর ওপরও এ হামলার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে তারা এই অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
এদিকে, ইরাক সরকারও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরব সফরের আগে সংশ্লিষ্ট ড্রোন হামলার ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ইরাকের সামরিক বাহিনীও জানিয়েছে, কোনো বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না এবং এ ধরনের তৎপরতা প্রতিরোধে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অপরদিকে, ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোট সৌদি আরবের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ড্রোন হামলার সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। পাশাপাশি তারা অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে সতর্ক করেছে, ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এ ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।



