প্রকাশিত: জুলাই ২৯, ২০২৬, ০২:২১ পিএম
উত্তর ইউরোপের দেশ নরওয়েতে গত দুই দশকে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ধর্মীয় জনসংখ্যার কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। একসময় যেখানে মুসলিম জনগোষ্ঠী তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল, বর্তমানে তাদের সংখ্যা প্রায় দুই লাখের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন, শরণার্থী পুনর্বাসন এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রবণতাই এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ।
নরওয়ের সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালে দেশটিতে নিবন্ধিত মুসলিমের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭২ হাজার। সময়ের ব্যবধানে সেই সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার থেকে দুই লাখের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ফলে ইসলাম দেশটির সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারিত ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর একটি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
একই সময়ে নরওয়ের ঐতিহ্যবাহী রাষ্ট্রীয় গির্জার সদস্যসংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। প্রায় তিন দশক আগে দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ ওই গির্জার সদস্য হলেও বর্তমানে সেই হার কমে প্রায় ৬২ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মীয় পরিচয়ে পরিবর্তন, ধর্মনিরপেক্ষ জীবনধারার প্রসার এবং জনসংখ্যার বৈচিত্র্য বৃদ্ধির কারণে এই পরিবর্তন ঘটছে।
গবেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আগত শরণার্থী এবং দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসীরা নরওয়ের জনসংখ্যার চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছেন। তাদের অনেকেই দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন এবং পরিবার গঠন করায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, নরওয়ের বহুসাংস্কৃতিক সমাজব্যবস্থায় বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ছে। এর ফলে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সামাজিক সম্প্রীতি এবং ধর্মীয় সহাবস্থানের বিষয়গুলোও নতুনভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। ভবিষ্যতেও অভিবাসন প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশটির ধর্মীয় জনসংখ্যার কাঠামোয় আরও পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



