প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
বিশ্বকাপে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন আর পূরণ হলো না ব্রাজিলের। শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে দুর্দান্ত খেলেছে নরওয়ে। আক্রমণভাগে আলিং হালান্ডের অসাধারণ নৈপুণ্যে দুই-এক গোলের জয় তুলে নিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে ইউরোপের দেশটি। অন্যদিকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় নিতে হয়েছে প্রত্যাশার অনেক আগেই।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। চতুর্থ মিনিটে নরওয়ে বল জালে পাঠালেও সহকারী রেফারির সিদ্ধান্তে সেটি বাতিল হয়ে যায়। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে ব্রাজিল। একাধিক আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করলেও শেষ মুহূর্তে গোলের দেখা পায়নি তারা।
প্রথমার্ধে ব্রাজিল একটি পেনাল্টির সুযোগ পেলেও সেটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। নরওয়ের গোলরক্ষকের অসাধারণ দক্ষতায় সেই সুযোগ নষ্ট হওয়ায় ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সম্ভাবনা হারায় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। এরপর দুই দলের পাল্টাপাল্টি আক্রমণে জমে ওঠে খেলা, তবে বিরতিতে যাওয়ার আগে কোনো দলই গোল করতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধে নরওয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে শুরু করে। ম্যাচের শেষ ভাগে আলিং হালান্ড প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আবারও প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল পূর্ণ করেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। তার দারুণ নৈপুণ্যে নরওয়ে দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
শেষ দিকে ব্রাজিল একটি পেনাল্টি পেয়ে ব্যবধান কমাতে সক্ষম হয়। নেইমার শান্তভাবে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে আর সমতায় ফিরতে পারেনি সেলেসাওরা। নির্ধারিত সময় শেষে দুই-এক গোলের জয় নিয়ে উল্লাসে মাতে নরওয়ে।
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছে নরওয়ে। প্রথমবারের মতো তারা শেষ আটে জায়গা করে নিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। পুরো ম্যাচজুড়ে রক্ষণ ও আক্রমণে শৃঙ্খলাবদ্ধ পারফরম্যান্সই তাদের জয় নিশ্চিত করে।
অন্যদিকে ব্রাজিলের জন্য এটি বড় ধরনের হতাশা। শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও নকআউট পর্বেই বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। আক্রমণে সুযোগ তৈরি হলেও গোলের সামনে ব্যর্থতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পেনাল্টি মিসের খেসারত দিতে হয়েছে দলটিকে। ফলে বহু প্রতীক্ষিত ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আরও একবার অধরাই থেকে গেল।



