প্রকাশিত: জুলাই ২৯, ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে সাময়িক বিরতির পর আবারও সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত সপ্তাহে বিমান হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণার পর এবার ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে নতুন করে যৌথ বিমান অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। এই অভিযানের পর পুরো অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যৌথ অভিযানে ইরাকের বিভিন্ন স্থানে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একাধিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। সংশ্লিষ্ট আধাসামরিক বাহিনীর দাবি, এ ঘটনায় অন্তত ২০ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও ৩২ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব জানিয়েছে, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং সংঘাত নতুন মাত্রা পেতে পারে।
এদিকে একই সময়ে হরমুজ প্রণালি যৌথভাবে পরিচালনার বিষয়ে ওমানের দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। পাশাপাশি তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে কয়েকটি জাহাজ এবং জর্দানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে জর্দান জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীও দাবি করেছে, তারা জর্দানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী কয়েকটি তেলবাহী জাহাজেও হামলার দাবি করেছে তারা।
এদিকে ইরাকের সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে। একদিকে ইরানের সঙ্গে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার কারণে দেশটি কঠিন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংযম ও কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়ানো না হলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।



