প্রকাশিত: জুলাই ২৯, ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম
তীব্র তাপপ্রবাহে অস্বাভাবিক গরমের মুখোমুখি হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বন্দরনগরী বুসানে গত ১২২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের সব রেকর্ড ভেঙে বুধবার শহরটির তাপমাত্রা এমন উচ্চতায় পৌঁছায়, যা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দেশটির আবহাওয়া কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুরের দিকে বুসানে তাপমাত্রা পৌঁছে যায় ৩৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এর আগে শহরটির সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ছিল ৩৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা কয়েক বছর আগে নিবন্ধিত হয়েছিল। ১৯০৪ সালে আবহাওয়ার তথ্য সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম এত বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হলো।
শুধু বুসানই নয়, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইয়াংসান শহরেও তাপমাত্রা ৪০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। সেখানে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর এটিও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। ফলে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র গরমে জনজীবন চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উচ্চচাপ বলয় এবং তিব্বতি উচ্চচাপ বলয়ের সম্মিলিত প্রভাবে এই তাপপ্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাজধানী সিউলেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। কয়েকটি এলাকায় অনুভূত তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করায় সতর্কতা আরও জোরদার করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এটি দ্বিতীয়বারের মতো তাপপ্রবাহজনিত বিশেষ সতর্কতা জারির ঘটনা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগও জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন সরকারি ভবনকে শীতল আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে খুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে নির্মাণকাজ সীমিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহের মাত্রা ও স্থায়িত্ব বাড়ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সাম্প্রতিক এই রেকর্ড সেই বৈশ্বিক প্রবণতারই আরেকটি স্পষ্ট উদাহরণ।



