প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সরাসরি আলোচনা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে লেবাননের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির মহাসচিব নাইম কাসেম বলেছেন, এ ধরনের আলোচনা লেবাননের জন্য সম্মান নয়, বরং অপমান, দুর্বলতা এবং একের পর এক ছাড় দেওয়ার পথ তৈরি করছে। একই সঙ্গে তিনি দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করে জাতীয় ঐক্য রক্ষায় আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার আশুরা উপলক্ষে দেওয়া এক ভাষণে নাইম কাসেম বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে লেবাননের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব নয়। তার দাবি, বারবার ছাড় দেওয়ার নীতি দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করছে এবং জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব সংকট মোকাবিলায় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইতালির রাজধানী রোমে লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফার সরাসরি আলোচনা শুরু হয়েছে। জানা গেছে, পূর্বে সম্পাদিত কাঠামোগত সমঝোতার বাস্তবায়ন, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। এর আগে একাধিক দফা বৈঠকের পর একটি সমঝোতার ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।
ওই সমঝোতায় অধিকৃত লেবাননের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি বাহিনীর সরে যাওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম সীমিত করার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব প্রস্তাব নিয়ে দেশের ভেতরে রাজনৈতিক মতপার্থক্য এখনো স্পষ্ট।
আলোচনা চললেও সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার দাবি, দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ও শ্বেত ফসফরাস ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকটি জলপাই বাগান ও পাইন বনাঞ্চলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। হামলার শব্দ আশপাশের বিভিন্ন এলাকাতেও শোনা গেছে বলে জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও অন্যদিকে সীমান্তে হামলার অভিযোগ দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে। ফলে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।



