প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম
গাজার একটি আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর উদ্ধার হওয়া এসব মরদেহকে ঘিরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মঙ্গলবার নিহতদের জানাজায় হাজারো ফিলিস্তিনি অংশ নেন। স্বজন হারানোর বেদনায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, গাজা নগরের সাবরা এলাকায় ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িগুলোর পাশেই মরদেহগুলো ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো অবস্থায় রাখা হয়। পরে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সেগুলো নগরের দক্ষিণাঞ্চলের একটি কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।
উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর অধিকাংশই একই পরিবারের সদস্য। জানা গেছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তারা নিহত হন। দীর্ঘদিন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকায় তাদের মরদেহ আগে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক অভিযানে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক শিশু, নারী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন। তবে উদ্ধারকাজ এখনো শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, একই স্থানের ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু নিখোঁজ মানুষের মরদেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, এখনো প্রায় ১৫৭ জনের সন্ধান মেলেনি। উদ্ধারকারী দল সীমিত সরঞ্জাম ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। হাজারো মানুষ আহত হওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। তাদের ধারণা, গাজাজুড়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ অবস্থায় রয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের জানাজা ফিলিস্তিনের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় শোকাবহ ঘটনার মধ্যে একটি। চলমান সংঘাতের কারণে গাজার মানবিক পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।



