প্রকাশিত: আগস্ট ৭, ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উত্তরাঞ্চলের ননথাবুরি প্রদেশের একটি বিদ্যালয়ে ভয়াবহ গুলির ঘটনায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আতঙ্কে পালানোর সময় আরও অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঘটনাটি দেশজুড়ে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী রয়েছেন। হামলার পর সন্দেহভাজন হামলাকারী, যিনি ওই বিদ্যালয়েরই নবম শ্রেণির ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী, তাকেও মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হামলার পর সে আত্মহত্যা করেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে অনেকেই বিকট শব্দকে আতশবাজির শব্দ বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু পরপর গুলির শব্দ শোনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে তারা দ্রুত বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে হুড়োহুড়িতে অনেকে আহত হন। পরে পুলিশ, দমকল ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠায়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হামলায় একটি পিস্তল ব্যবহার করা হয়েছে। এত অল্প বয়সী এক শিক্ষার্থীর হাতে অস্ত্র কীভাবে পৌঁছালো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি হামলার পেছনে কোনো ব্যক্তিগত, সামাজিক বা মানসিক কারণ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
ঘটনার পর বিদ্যালয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দেয়। অনেকেই দ্রুত বিদ্যালয়ে গিয়ে সন্তানদের নিরাপদে বাড়ি নিয়ে যান। এ ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, থাইল্যান্ডে আগ্নেয়াস্ত্রের সহজলভ্যতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। অতীতেও দেশটিতে একাধিক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা আবারও বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।



