প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের স্থলভাগে বড় কোনো পরিবর্তন দৃশ্যমান না হলেও আকাশপথে হামলার মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। পাল্টাপাল্টি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বেসামরিক মানুষের প্রাণহানিও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, গত মাসে রাশিয়া প্রতিদিন গড়ে ১৭২টি আকাশ হামলা চালিয়েছে। বিপরীতে ইউক্রেনের হামলার দৈনিক গড় ছিল ২৮টি। ফলে দুই পক্ষের হামলার সক্ষমতা অনেক ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এর সুযোগে বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।
গত এক বছরে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইউক্রেনের চালকবিহীন আকাশযান ব্যবহারের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার তেল শোধনাগার, তেলবাহী ট্যাংকার, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা জোরদার করা হয়েছে। রুশ সামরিক সরবরাহব্যবস্থা দুর্বল করতে অধিকৃত পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনাতেও হামলা চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে রাশিয়াও ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যাপক আকাশ হামলা অব্যাহত রেখেছে। গত জুলাই মাসে ইউক্রেনের ওপর ১৩৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা চলতি বছরে এক মাসে সর্বোচ্চ বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের অন্যতম কৌশল হলো রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দিতে বাধ্য করা। একই সঙ্গে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শহর ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়ে যুদ্ধের চাপ সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ী মহলের ওপরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে জাতিসংঘের হিসাব বলছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউক্রেনে অন্তত ১ হাজার ৩৯৬ জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ৭ হাজার ৯৭৮ জন আহত হয়েছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। ফলে যুদ্ধের স্থলভাগে অগ্রগতি সীমিত থাকলেও আকাশপথের সংঘাত ক্রমেই আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।



