প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে সহায়তা দিতে উত্তর কোরিয়া আরও প্রায় ৫০ হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর ভাষ্য, এরই মধ্যে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে বিপুলসংখ্যক সেনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করেছে। নতুন করে সেনা মোতায়েন হলে ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে অবস্থান করা উত্তর কোরীয় সেনারা আধুনিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় উত্তর কোরিয়ায় তৈরি কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের অস্তিত্ব পাওয়ার দাবিও করেছেন তিনি। এর আগে জুলাই মাসে তিনি জানিয়েছিলেন, রাশিয়ায় প্রায় ৩০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েন হতে পারে। এবার সম্ভাব্য সেনাসংখ্যা আরও বাড়ার কথা জানালেন তিনি।
ইউক্রেনের সামরিক কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট পশ্চিম রাশিয়ার দিকে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো শুরু করেছে। ওই ইউনিটে প্রায় ১২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং কয়েকটি উৎক্ষেপণযন্ত্র থাকার ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে ২০২৪ সালে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রায় ১৪ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা অংশ নিয়েছিল বলে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। পাশাপাশি উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে বিপুল পরিমাণ কামানের গোলা, মর্টারের গোলা, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট সরবরাহ করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি। রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
যুদ্ধের ময়দানে একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সহযোগিতা বাড়ছে, অন্যদিকে ইউক্রেনও বিভিন্ন মিত্র দেশের কাছ থেকে অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সহায়তা সংগ্রহের চেষ্টা করছে। তুরস্কের কাছ থেকেও ইউক্রেন ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ ও রকেট উৎক্ষেপণব্যবস্থা সংগ্রহ করতে পারে বলে বিভিন্ন নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনের খারকিভ, ওদেসা ও দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রুশ হামলায় হতাহত ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে রাশিয়ার বেলগোরোদ ও নোভোরোসিস্ক অঞ্চলেও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় হতাহত ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে রাশিয়া।
যুদ্ধের প্রভাব ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরও পড়ছে। বুলগেরিয়ার আকাশসীমায় একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন ঢুকে বিস্ফোরিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মলদোভাতেও একটি যুদ্ধ ড্রোনের অংশ পাওয়া যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সামনে শীত মৌসুমকে কেন্দ্র করে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং। তাঁর আশঙ্কা, রাশিয়া শীতকালকে ইউক্রেনের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
অন্যদিকে পোপ লিও যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বেসামরিক মানুষ ও শিশুদের হতাহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উভয় পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলা এবং বেসামরিক স্থাপনায় হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে সামরিক জোট ও সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়ছে। উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য নতুন সেনা মোতায়েন এবং ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারের প্রচেষ্টা যুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।



