প্রকাশিত: আগস্ট ১৪, ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ সময় ধরে মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর নাবিকদের জীবনযাপন নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। টানা ২৫০ দিনের বেশি সময় সমুদ্রে অবস্থান করায় জাহাজটিতে থাকা প্রায় পাঁচ হাজার সামরিক সদস্যকে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব, খাদ্য ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কয়েকজনের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি এই মোতায়েনের কারণে জাহাজে খাবার সরবরাহ, বিশুদ্ধ পানি, পানি নিষ্কাশন ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, ডাক পরিবহন এবং স্বাস্থ্যসেবায় নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন বন্দরে না ভেড়ায় নাবিকদের স্বাভাবিকভাবে জাহাজের বাইরে যাওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। এতে শারীরিক ক্লান্তির পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
কয়েকজন নাবিকের পরিবারের সদস্য দাবি করেছেন, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে তাদের স্বজনদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। কারও ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, আবার কেউ পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের অভাবের কথা জানিয়েছেন। জাহাজে অতিরিক্ত শব্দ, সার্বক্ষণিক কম্পন, গরম পানির সংকট এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রীর ঘাটতিও নাবিকদের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বড় একটি অংশ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা ব্যাঘাত ঘটলেও খাদ্য, স্বাস্থ্যসামগ্রী ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরবরাহ করা হচ্ছে। জাহাজে বিশুদ্ধ পানি, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং পুষ্টিকর খাবারের সরবরাহও বজায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও জাহাজটির পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন অভিযোগকে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন হলেও নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
এদিকে দীর্ঘদিনের মোতায়েনের কারণে নৌসদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আইনপ্রণেতারা বিষয়টি সরেজমিনে পর্যালোচনা এবং জাহাজের নাবিকদের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। দীর্ঘ মোতায়েনের পর রণতরীটির পরিবর্তে অন্য একটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের প্রস্তুতিও চলছে বলে জানা গেছে।



